কিভাবে ফিটনেস বজায় রাখা যায়

সুস্বাস্থ্যের জন্যে ফিটনেস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি মানুষ চায় সুস্থ জীবনযাপন করতে। সুস্থ থাকার পাশাপাশি ফিটনেস বজায় রাখাটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনধারার উপর অনেকাংশেই নির্ভর করে। কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন কাজের ব্যাস্ততা এবং নিজেদের অলসতার কারনে আমরা ফিটনেস নিয়ে খুব একটা সচেতন না। 

কিভাবে ফিটনেস বজায় রাখা যায়, ফিটনেস,
কিভাবে ফিটনেস বজায় রাখা যায়

ফিটনেসঃ শারীরিক সক্ষমতা বা ফিজিক্যাল ফিটনেস হল সুস্থতা ও ভালো-থাকার একটি অবস্থা এবং আরও স্পষ্টভাবে বললে, এটি হল বিভিন্ন প্রকার খেলাধূলা, পেশা ও দৈনন্দিন কাজকর্ম করার ক্ষমতা। সাধারণত শারীরিক সক্ষমতা অর্জন করা হয় সঠিক পুষ্টি, সহনীয় পর্যায়ের শক্তিশালী শারীরিক ব্যায়াম, এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের মাধ্যমে।

একজন মানুষকে তখনই ফিট বলা যাবে যখন সে শারীরিক এবং মানুষিক দু ভাবেই সে সুস্থ থাকবে। আর এই ফিটনেস ধরে রাখার জন্যে আমাদের প্রতিদিন মেনে চলতে হবে কিছু কৌশল।

ফিটনেস মেইনটেইনের কিছু কৌশলঃ

ফিটনেস
ফিটনেস

১) নিয়মিত শরীরচর্চা বা ব্যায়ামঃ সকালে বিকালে নুন্যতম ২০মিনিট করে হাটা। এমন গতিতে হাটতে হবে যেনো শরীর ঘেমে যায়। এভাবে সাধ্যমত জোরে হাঁটলে হৃদযন্ত্র ফুসফুসের বেশি উপকার হয়। যারা অফিসের কারণে একেবারেই সময় পান না, তারা অন্তত রাতে খাওয়ার পর আস্তে আস্তে ২০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করবেন । এতে হজম হওয়ার পাশাপাশি পেটের মেদ কম থাকবে । হাটার পাশাপাশি জগিং, সাইকেল চালানো, স্কিপিং, সাঁতার যেতে পারে।

২) সঠিক খাবার খাওয়াঃ ফিট থাকার জন্যে প্রয়োজন পরিমিত খাবার সাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। তেল চর্বি জাতীয় খাবার কিনবা যেসব খাবারে অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে অথবা ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে যাওয়া। শরীরের ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া। শর্করা জাতীয় খাবার বেশি পরিমানে খাওয়া যাবে না। শাকসবজি ফলমূল বেশি করে খাওয়ার অভ্যাস করা।

৩) যোগ ব্যায়াম করাঃ যোগ ব্যায়ামের কৌশল গুলো দীর্ঘস্থায়ী ব্যাথা কমিয়ে দিতে পারে, যেমন পিঠের ব্যাথা, বাত, মাথা ব্যাথা। যোগ ব্যায়েমের অন্যতম সেরা সুবিধা হলো একজন ব্যাক্তি শারীরিক এবং মানুষিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৪) ইতিবাচক মনোভাব রাখাঃ ফিটনেসের সাথে মস্তিষ্ক মনের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ আছে। একজন মানুষ উচিত মস্তিষ্ক এবং হৃদয় দিয়ে সর্বদা প্রফুল্লচিত্তে ভালো কিছু চিন্তা করার কিনবা ভালো কিছু করার পরিকল্পনা করা এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মনোভাব বজায় রাখা। এতে করে একজন মানুষ শারীরিক এবং মানুষিক দু ভাবেই নিজেকে ফিট রাখতে পারবে।

৫) মেডিটেশন করাঃ প্রতিটি মানুষের উচিত নিয়ম করে নির্দিষ্ট সময় মেনে মেডিটেশন করা। প্রতিদিনের ব্যাস্ততায় যুগের সাথে তাল মিলিয়ে দৌড়াতে গিয়ে আমদের নিতে হচ্ছে টেনশন, কাজের চাপ, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা যা আমাদের মনে উপর চাপ সৃষ্টি করে একে বলে স্ট্রেস। প্রতিদিনের এই অবসাদ, ক্লান্তি এবং দুশ্চিন্তা কমাতে যোগব্যায়ামের পাশাপাশি মেডিটেশন করা উচিত। মেডিটেশন করার মাধ্যমে একজন মানুষ মানুসিক দৃঢ়তা এবং ধৈর্য্য বাড়াতে সাহায্য করবে।

ফিটনেস
ফিটনেস

৬) পর্যাপ্ত পানি পান করাঃ শরীর সুসুস্থ বজায় রাখতে পর্যাপ্ত জল খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ৬-৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত। জল ডিটক্সিফাই করে, হজমে সাহায্য করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, পেশিকে শক্তি জোগায়, এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। কোমল পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকা। কারন এতে থাকে প্রচুর ফ্যাট যা শরীরের জন্যে ক্ষতিকর।

৭) শরীরের সঠিক ওজন বজায় রাখাঃ যদিও সকলের শরীরের আকার, আয়তন, ওজন এক নয়, তবে আমাদের ওজন ঠিক আছে কিনা জানার সহজ উপায় হল বডি মাস ইনডেক্স (Body mass index ) [ ১৮.৫- ২২.৯] রেঞ্জের মধ্যে BMI হল আদর্শ। ওজন কমানোর অনেক উপায় রয়েছে, প্রয়োজনে ভালো ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিয়ে ওজন যেতে পারে।

৮) রাতে ভালো ঘুমনোঃ বিশ্রাম এবং মেডিটেশন, ঘুমানোর আগে এক গ্লাস উষ্ণ দুধ, রাতে ভালো ঘুমাতে সাহায্য করে। সবসময় একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। সমস্ত স্ট্রেস ঝেড়ে ফেলে ঘুমাতে যাবেন। রাতে ভালো ঘুম পরবর্তী দিনে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। প্রতিদিন ন্যূনতম ৬ ঘন্টা ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে।

৯) নেশা জাতীয় দ্রব্য পরিত্যাগ করাঃ নেশা জাতীয় দ্রব্য যেমন পান, সিগারেট, মদ পান সহ সকল নেশা জাতীয় দ্রব্য শারীরিক ভাবে ফিটনেস ব্যহত করে। শারিরীক, মানসিক এবং অর্থনৈতিক তিন ধরনের ক্ষতি করে।

১০) জিম বা ফিটনেস সেন্টারে এটেন্ড করাঃ অনেকেই ফিটনেস ঠিক রাখতে বেছে নেয় পেশাদারি জিমকে। জিমের ফিটনেস ট্রেনারের সাহায্যে নিয়মিত জিম করলে এবং ট্রেনারের পরামর্শে সঠিক খাবার তালিকার নিয়ম মেনে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা৷

১১) ফিটনেস বজায় রাখতে প্রযুক্তির ব্যবহারঃ স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ যারা প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল তারা অনেকেই বেছে নিয়েছে ফিটনেস অ্যাপ। এই সব অ্যাপের সাহায্যে সারাদিন যতটা শরীরচর্চা করবেন সেই ওয়াকআউট এর খুটিনাটি ব্যাপার নজর রেখে সেইসব অনুসরন করে ঠিক ভাবে শরীরচর্চা করার অভ্যাস করা। আমাদের স্বাস্থ্য বিষয়ক আর্টিকেল গুলো পড়তে ক্লিক করুন। আমাদের হেলথ প্যাকেজ গুলো দেখতে ক্লিক করুন। 

 

Leave a reply:

Your email address will not be published.

Site Footer